Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

পৃথিবীর বিলুপ্তপ্রায় সাদা বাঘ শ্রীমঙ্গল চিড়িয়াখানায়

Published:2013-07-06 10:50:26    


মৌলভীবাজার: পৃথিবীর বিলুপ্তপ্রায় বিরল প্রজাতির সাদা বাঘটি শ্রীমঙ্গল উপজেলার রামকৃষ্ণ মিশন মিশন রোড়ের সৌখিন প্রাণী সংরক্ষণবীদ সিতেশ রঞ্জন দেব এর মিনি চিড়িয়াখানায়।

সাদা বাঘ সিলেটে পৃথিবীর বিরল প্রজাতির প্রাণীগুলোর মধ্যে সাদা বাঘ অন্যতম। অত্যন্ত হিংস্র এ বাঘটির তীক্ষ্ণ চোখ মূহুর্তে রং বদলায় সাত বার। সিতেশ রঞ্জন দেবের মিনি চিড়িয়াখানায় প্রতিদিন দুর দূরান্ত থেকে সাদা বাঘটি দেখতে অসংখ্য মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।

সূত্র জানায়, ৭/৮ বছর আগে ৬ মাস বয়সী এ সাদা বাঘটি শ্রীমঙ্গলের হাইল-হাওরে জেলেদের জালে ধরা পড়ে। সিতেশ দেব খবর পেয়ে সাদা বাঘটি সংগ্রহ করে তার মিনি চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসেন। বর্তমানে সাদা বাঘটি লম্বায় ৪ ফুট, উচ্চতা আড়াই ফুট এবং ওজন ২৫ কেজি। অত্যন্ত হিংস্র এ সাদা বাঘটি মাংস ছাড়া অন্য কোনো খাবার গ্রহণ করে না। প্রতিদিন বাঘটি দেড় কেজি মুরগির মাংস খেয়ে থাকে।

প্রাণী সংরক্ষণবিদ সিতেশ দেব বলেন, দেশের অন্য কোনো স্থানে বা চিড়িয়াখানায় সাদা বাঘ আছে কি না জানা নেই।

এ বাঘের সবচেয়ে আশ্চর্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- প্রতি মুহূর্তে এর চোখের রঙ বদলায়। কিছুক্ষণ পর পর এর চোখ লাল, হলুদ, সাদা ও কমলা রঙ ধারণ করে।

শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সিতেশ রঞ্জন দেব বলেন,  ৭/৮ বছর আগে বর্ষাকালে বিলাসা নদী দিয়ে ভেসে আসছিল। আমি খবর পেয়ে সাদা বাঘটি উদ্ধার করে নিয়ে আসি। উদ্ধারের সময় সাদা বাঘের মাত্র ওজন ছিল  ১৫০ গ্রাম এখন তার বর্তমান ওজন ২৫কেজি।

সিতেশ দেব বলেন, আমার ধারণা ভারত থেকে উজানের বর্ষার ঢলের পানিতে তার সঙ্গী হারিয়ে এদিকে চলে আসে। তবে আমার জানা মতে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ কোথাও বিরল এ সাদা বাঘের সন্ধান পাওয়া যায়নি।”

প্রসঙ্গত, ১৯৭০ সালে কলকাতার আলিপুর চিড়িয়াখানায় এক বাঘ দম্পতি তেরোটি শিশুর জন্ম দেয়। যাদের মধ্যে তিনটি সাদা। চীনের পেকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী সু-জিন লুয়ো ও তার সতীর্থরা পরীক্ষা করে দেখেছেন জিনের একটি বিশেষ রঞ্জক পদার্থের পরিবর্তনই এই সাদা রঙের জন্য দায়ী। বিজ্ঞানীদের মতে কোনো প্রাণীর কোষের স্বাভাবিক রঞ্জক পদার্থই দেহবর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে।

বাংলাসংবাদ২৪/এনএম

আরও সংবাদ