Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Tue August 21 2018 ,

অবিলম্বে কোটা প্রথা বাতিলের দাবি ছাত্রশিবিরের

Published:2013-07-11 17:52:34    

ঢাকা: বিসিএস পরীক্ষায় কোটার মাধ্যমে মেধার অবমূল্যায়ন ও আওয়ামী সরকারের দলীয় লোক নিয়োগের ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে প্রেরনকৃত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

এক প্রতিবাদ বার্তায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী জেনারেল আবদুল জব্বার বলেন, বিসিএস পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ৩০%সহ ৫৬% যেখানে কোটার আওতায় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে, সেখানে মেধার ভিত্তিতে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে মাত্র ৪৪%।

এই সংখ্যাই জানিয়ে দেয়- বাংলাদেশে কীভাবে মেধার অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। যেখানে পিএসসির উচিৎ কোটা প্রথা তুলে দেয়া, সেখানে তারা ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষার ফল যেভাবে প্রকাশ করেছে, তা বৈষম্যকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। যেখানে একজন ছাত্র ৭৫-৮০ এর ঘরে নাম্বার পেয়েও টিকতে পারেনি, সেখানে কোটার মাধ্যমে আরেক ছাত্র ৬০-৬৫ এর ঘরে নাম্বার পেয়ে টিকে যাবে, এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আওয়ামী সরকারের ক্ষমতার শেষ সময়ে দলীয় লোকদের নিয়োগ দিতেই যে পিএসসি এবারে তুঘলকি কায়দায় বিসিএসের ফল প্রকাশ করেছে, তা বাংলাদেশের জনগনের বুঝতে বাকি নেই।

অনতিবিলম্বে ছাত্রদের দাবি মেনে ৩৪তম বিসিএসের ফল বাতিল করতে আমরা পিএসসি ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

শিবির সেক্রেটারী জেনারেল বলেন, আজ ছাত্ররা কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে যে আন্দোলনে নেমেছে তা দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিপ্রকাশ। স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও ছাত্ররা যখন সরকারি চাকরির অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তখন বাধ্য হয়েই তারা রাজপথে নেমেছে।

ছাত্রদের এই অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে আমরা আন্তরিকভাবেই সমর্থন করছি। আজ পুলিশ ও ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা একযোগে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর দফায় দফায় হামলা করেছে। আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। দলীয় বিবেচনায় মুক্তিযোদ্ধার সনদ বিতরণ করার মাধ্যমে সরকার পূর্ব থেকেই চক্রান্ত চালিয়ে আসছে। দলীয় লোকদের প্রশাসনে নিয়োগের এই ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র যখন দেশবাসী বুঝে ফেলেছে, তখন ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা মরিয়া হয়েই সরকারের নির্দেশে পুলিশের সাথে অস্ত্রসহ রাজপথে নেমে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর হামলা করেছে।

এভাবে সন্ত্রাসী হামলা করে ছাত্রজনতার নৈতিক দাবিতে করা আন্দোলন ঠেকানো যাবে না বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, শাহবাগে ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ অবরোধ ও চলমান আন্দোলনের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান জাতির সামনে প্রশ্নের অবতারণা করে। যেখানে মাসের পর মাস সরকারের মদদে নাস্তিক্যবাদী ব্লগার চক্রের জমায়েত চলতে পারে, সেখানে ছাত্রদের একদিনের অবস্থানেই সরকার নিপিড়নমূলক আচরণের পথ কেন বেছে নিয়েছে? সরকারের কর্তাব্যক্তিরা যেভাবে কথা বলছেন তাতে প্রতীয়মান হয় যে, প্রশাসনে দলীয় লোক নিয়োগের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হতে চলায় তারা অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছেন।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ভূমিকা রাখা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি এ দেশ-জাতি বরাবরই শ্রদ্ধাশীল। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যেকেই সমঅধিকারের ভিত্তিতে বৈষম্যহীন একটি বাংলাদেশ দেখতে চান। সরকার যেভাবে কোটা প্রথার ব্যবহার করছে, তা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যাশাকে সমর্থন করে না।

আমরা আশা করি, সরকার বাস্তবতা বুঝে ষড়যন্ত্রের পথ থেকে সরে আসবে। অন্যথায় ছাত্রদের চলমান আন্দোলন ভিন্ন মাত্রা লাভ করতে পারে। ছাত্রদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সমাধানের দিকে না এগুলে নানান ব্যর্থতায় পর্যবসিত সরকার নিজেদের বিপদকেই আরো বাড়িয়ে তুলবে।

শিবির সেক্রেটারী জেনারেল ছাত্রদের চলমান আন্দোলনে হামলা থেকে পুলিশ-ছাত্রলীগকে বিরত রাখতে ও অবিলম্বে  কোটা প্রথা বাতিল করে সকল ছাত্রদের সমঅধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাসংবাদ২৪/এনডি/আর

আরও সংবাদ