Widget by:Baiozid khan

ঢাকা Thu November 22 2018 ,

  • Advertisement

রহমান রনি বাড়ি কাওয়ার চর

Published:2013-07-20 20:06:46    

ধীলন জলীল

ঢাকা: আওয়ামী লীগ এমপি গোলাম মওলা রনি। পিটিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন টেলিভিশনের আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাংবাদিকদের। মীমাংসা করেছেন আওয়ামী লীগপন্থি শেখ হাসিনার অনুসারী সাংবাদিক গ্রুপ ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন আওয়ামীপন্থি (ফারুক-শাবান)। বিষয় আওয়ামী এমপি দাবি করেছেন, তার কাছে সালমান এফ রহমানের টেলিভিশন কর্মীরা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। এমপি রনি তার ফেইসবুক এবং অনলাইন পত্রিকায় বলেছেন, যেহেতু তিনি আওয়ামী লীগের অন্যতম সমালোচক বিশেষ করে যারা আওয়ামী লীগকে আজকের অধঃপতনের এই জায়গায় এনেছেন, তাদেরকে তিনি কট্টর ভাষায় সমালোচনা করেন, তার মালিকানাধানী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যে তৃতীয় ধাক্কাটির মুখোমুখি হয়েছে তাহলো শেয়ার মার্কেট। এই শেয়ার মার্কেটের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে যেসব আওয়ামী নেতা, তাদের নেতা সালমান এফ রহমান। তিনি আবার প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার বাণিজ্যিক উপদেষ্টাও। বয়স, দাড়ি, চুল এবং চলন-বলন সব মিলিয়ে সালমান এফ রহমান এখন শিল্প ও বাণিজ্যিক জগতে দরবেশ নামে খ্যাত। তার এই দরবেশ নামটি ব্যাপকভাবে প্রসার দিয়েছে ১৮ দলীয় জোট এমপি আন্দালিব রহমান পার্থ এবং সাংবাদিক মুন্নি সাহা। অবশ্যই সালমান এফ রহমান এখন দরবেশ নামে এককভাবেই পরিচিত। তিনি দরবেশ। তবে ইতিবাচক নয়; নেতিবাচক। অর্থাৎ তিনি সুনীতির দরবেশ নন; তিনি দরবেশ দুর্নীতির।
এই দরবেশ সাহেব আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর একটি টেলিভিশন চ্যানেলের মালিক হয়েছেন। এই মালিকানার অন্যতম অংশীদার মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান সাহেবের পুত্রনন্দন জনাব পাপন। দরবেশ সাহেব দুর্নীতি এবং মাতবরিতে অনেক আওয়ামী তরুণ নেতা এবং কর্মী অতিষ্ট। তারা দরবেশকে সহ্য করতে পারেন না। অপ্রাসঙ্গিক হলেও এখানে আরেকটি তথ্য যোগ করতে চাই, তাহলো তিনি বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার আপন ভাতিজা।

সম্প্রতি ৫ সিটি নির্বাচনে ব্যাপক পরাজয়ের অন্যতম কারণ শেয়ার মার্কেটের কেলেঙ্কারি, দরবেশের নেতৃত্বে কোটি কোটি টাকা লোপাট। বিষয়টি এখন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃত বিষয়। তারপরও দরবেশ ভালো আছেন, ভালো আছেন তার মাস্তানেরা (অনুসারী) এবং তার খানকাহও ভালো চলছে। কারণ জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী তার সহায়। এ অবস্থায় গোলাম মাওলা রনি যখন দেখলেন, তার কথাবার্তায় গণমাধ্যম বেশ গুরুত্বের সাথে প্রচার করে তখন এন্টি আওয়ামী লীগ প্রচারণায় নিজেকে ব্যস্ত রাখতে গিয়ে সালমান এফ রহমানকেই শিরোনামে এনেছেন। কথায়, কাজে এবং লেখায় এমনকি সংসদ আলোচনায়ও রনি এই দরবেশ সাহেবকে আক্রমণ করে চলেছেন।

অপরদিকে দরবেশ সাহেব, কথায় আছে না- যার যে অস্ত্র। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর চ্যানেল করার অনুমতি নিয়ে তিনি যে চ্যানেলটি শুরু করেছেন সেটিকে রনি সাহেবের বিরুদ্ধে নামিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাতেই মূলত গতকালের এ যুদ্ধলীলা।

প্রেসক্লাবের অদূরে মেহেরবা প্লাজা। সেখানেই রনি সাহেবের অফিস। সেখানেই দরবেশের সাংবাদিক আক্রমণ। ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন রনি। ফলে যা হবার তা-ই হয়েছে। দুই সাংবাদিক আহত হয়েছেন। খবর বেরিয়ে একটি ক্যামেরা ভেঙেছে এবং সাংবাদিকরা হাসপাতালে চিকিৎধীন। তাকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব এবং পুলিশ। এও আওয়ামী লীগের প্রশাসনিক শাখা।
বিচার করেছেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন আওয়ামী গ্রুপের সভাপতি জনাব ফারুক ও সেক্রেটারি শাহ জাহান। সঙ্গে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের আরো কয়েকজন সদস্য ছিলেন। সালিসের চূড়ান্ত রায় বের হয় তিন ঘণ্টা পর। রনি সাহেব ক্ষমা চেয়েছেন, ক্যামেরা কিনে দেবেন এবং আহত সাংবাদিকের চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু ইতোমধ্যে খবর তো! আবার সাংবাদিকের খবর, গণমাধ্যমের খবর, তা পৌঁছে গেছে সর্বত্র।

রনি সাহেব সালিসের বাইরে গণমাধ্যমকে বলেছেন, দরবেশ সাহেবের বিরুদ্ধে কথা বলায় এবং পত্রিকায় লেখায় সাংবাদিকের নামে কতিপয় গুন্ডা পাঠিয়ে এসব ব্যবস্থা করছেন। তিনি বলেছেন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির কথিত সাংবাদিকরা তার গ্রামের বাড়ি গেছে এবং তার বিরুদ্ধবাদীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে তাকে দুর্নীতিবাজ বানানোর চেষ্টা করছেন। অনুষ্ঠানের নাম ‘তালাশ’। রনি সাহেবও প্রস্তুত রয়েছেন। সালিস কর্মকর্তারা শেষ সময় বলেছেন, নিজেদের নিজেদের মধ্যে একটু ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। মাথা ছিলা দুই বরিশালবাসীর বিজ্ঞাপনের ভাষার মতো, সবই নিজেরা নিজেরা- ব্যাপারটাই আলাদা, বাড়ি কাওয়ার চর। দরবেশ এবং রনি দুজনেরই ঘর আওয়ামী লীগ।



বাংলাসংবাদ২৪/এইউ/বিএইচ
 

আরও সংবাদ