Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

আজ তাজউদ্দীন আহমদের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী

Published:2013-07-23 13:06:38    


ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী তাজউদ্দীন আহমদের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী আজ। তার জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়েজন করেছে।
১৯২৫ সালের এই দিনে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার দরদরিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাজউদ্দীন আহমদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতা, সততা ও আদর্শবাদের অনন্য প্রতীক।
তাজউদ্দীন স্বভাবগতভাবে আদর্শসন্ধিৎসু, আদর্শনিষ্ঠা এবং আদর্শের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণে প্রণীত কর্মসূচি বাস্তবায়নে আত্মনিবেদিত নেতা ছিলেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র ছিল তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন ক্ষমতা উপভোগের জন্য নয়, সমাজ ও জাতিকে নিয়ে তাঁর আকাঙ্ক্ষাকে সফল করার আন্তরিক তাগিদে। তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন লক্ষ্য অর্জনের প্রয়োজনে—দায়িত্ব পালনের জন্য। পূর্ব পাকিস্তান গণতান্ত্রিক যুবলীগ, আওয়ামী লীগ প্রভৃতি সংগঠনে তাঁর উদ্দেশ্য ও আচরণ ক্ষমতা-উপভোগকারীদের উদ্দেশ্য থেকে ভিন্ন ছিল।
স্বদেশে অভীষ্ট রাষ্ট্র গঠন, জাতি গঠন ও সমাজ গঠন ছিল তাঁর লক্ষ্য। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ছয় দফা প্রণয়ন ও প্রচারে এবং আন্দোলনে শেখ মুজিবুর রহমানের (১৯২০-১৯৭৫) সহকর্মী হিসেবে তিনি যে ভূমিকা পালন করেছেন, তা তাঁর বিস্ময়কর সংগঠননিষ্ঠা, সামর্থ্য ও যোগ্যতা প্রমাণ করে।

তাজউদ্দীনের সংগঠনমনস্কতা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে গুরুত্ব পেয়েছে কম। শেখ মুজিব সাংবিধানিক ব্যাপারে সাফল্য অনুভব করেছেন আওয়ামী লীগের সমর্থনে এবং নিজের সমর্থনে জনসাধারণকে জয় করতে পেরেই তাঁর উৎসাহ ছিল প্রতিপক্ষের মোকাবিলায়, দলীয় আত্মগঠনের এবং জনসমর্থনকে দীর্ঘস্থায়ী করার সমস্যাবলি নিয়ে অল্প ভেবেছেন।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের কালে প্রবাসে গঠিত প্রথম বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যুদ্ধের রাজনৈতিক নেতৃত্বের তথা সার্বিক নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নিজের শক্তির ওপর নির্ভর করে, ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রত্যক্ষ সহায়তা নিয়ে এবং সারা দুনিয়ার জনগণের সমর্থন নিয়ে, বিজয় অর্জন ও স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং কর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং জাতীয়তাবাদ ও তার সম্পূরক আন্তর্জাতিকতাবাদকে আদর্শ রূপে গ্রহণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা ছিল তাঁর লক্ষ্যও।

ছাত্র জীবনেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর থেকে ভাষার অধিকার, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সামপ্রদায়িকতাবিরোধীসহ সব আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আওয়ামী লীগের গঠন প্রক্রিয়ার মূল উদ্যোক্তাদের তিনি একজন। ১৯৬৬ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ওই বছরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা ঘোষণা করেন। ৬ দফার অন্যতম রূপকার হলেন তাজউদ্দীন আহমদ।

১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। এই অসহযোগ আন্দোলন পরিচালনায় তাজউদ্দীন আহমদ যথেষ্ট সাংগঠনিক দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন।

বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে তখন নেতৃত্বের মূল দায়িত্ব তাজউদ্দীন আহমদের ওপর অর্পিত হয়। তার জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি ১৯৭১ সালে এক চরম সংকটময় মুহূর্তে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে সফলভাবে ভূমিকা পালন করেছেন। তাজউদ্দীন আহমদ এই গুরুদায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে মাত্র ৯ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। পরবর্তী সময়ে 'আদর্শ' ও 'নীতিগত' প্রশ্নে ১৯৭৪ সালের ২৬ অক্টোবর তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ক্ষমতা দখলকারী ঘাতকচক্র সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর তাজউদ্দীন আহমদকে গৃহবন্দি করে। পরে তাকে কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়। বন্দী অবস্থায় তাকেসহ অন্য ৩ জাতীয় নেতাকে জেলখানার ভেতরে একই বছরের ৩ নভেম্বর ঘাতকচক্র নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে।

তাজউদ্দীন আহমদের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ধানমন্ডিস্থ গ্যালারি ২১-এ আজ সকাল ১১টায় মুজিবনগর সরকার তথা মুক্তিযুদ্ধের দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য চিত্রমালার (যা ইতিপূর্বে প্রদর্শিত হয়নি) এক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বরেণ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক, প্রফেসর ইমেরিটার্স ড. আনিসুজ্জামান এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন। প্রদর্শনীটি আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এছাড়া মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টায় মুক্তিভবনে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা পরিষদ এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।


বাংলাসংবাদ২৪/এনএম