Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Mon July 16 2018 ,

গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে আগ্রহ নেই বিএনপি কর্মীদের

Published:2018-02-21 00:20:50    
গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে আগ্রহ নেই বিএনপি কর্মীদের

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(): https:// wrapper is disabled in the server configuration by allow_url_fopen=0

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(https://api.facebook.com/method/fql.query?format=json&query=SELECT+url%2C+normalized_url%2C+share_count%2C+like_count%2C+comment_count%2C+total_count%2C+commentsbox_count%2C+comments_fbid%2C+click_count+FROM+link_stat+WHERE+url+%3D+%27http%3A%2F%2Fbanglasongbad24.com%2Fcontent%2Ftnews%2F546%27): failed to open stream: no suitable wrapper could be found

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Trying to get property of non-object

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 35

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার মুক্তির দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে শনিবার থেকে সারাদেশে চলছে দলটির গণস্বাক্ষর অভিযান। তবে এই গণস্বাক্ষর অভিযানে আগ্রহ নেই বিএনপির কর্মীদের। তারা মনে করেন, গণস্বাক্ষর অভিযান পরিচালনা করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। কারণ, এই ধরনের ‘হোমিওপ্যাথিক কর্মসূচি’তে সরকার কোনও ধরনের চাপ অনুভব করছে না। বরং সরকারের পক্ষ থেকে তিরস্কার শুনতে হচ্ছে। তাই সরকারকে চাপে ফেলে  খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে মাঠের কর্মসূচি ঘোষণা করতে হবে। যদিও দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে দেশব্যাপী ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
সোমবার বেলা ১২ টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে গিয়ে দেখা যায়,  ছোট একটি টেবিলে বিএনপির শেষের সারির  কয়েকজন নেতা বসে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন। ওই সময় কথা হয় বিএনপির কর্মী কামরুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী। তিনি বলেন, আমি মনে করি খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার পাননি। তাই এই গণস্বাক্ষর বইয়ে স্বাক্ষর করেছি। তবে এই ধরনের কর্মসূচি দিয়ে তাকে মুক্ত করা যাবে বলে আমি মনে করি না।
 
বিএনপির আরেক সমর্থক আরাফাত বলেন, আমি খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। তাই স্বাক্ষর করেছি। কারণ, দুই কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে জেলে নেওয়া হয়েছে তাকে। কিন্তু সেই ২ কোটি টাকা এখন ব্যাংকে ৬ কোটি টাকা হয়েছে। তাহলে দুর্নীতি করলো কীভাবে। বিএনপির আর ও শক্ত কর্মসূচি দেওয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন।
গণস্বাক্ষর অভিযানের পাশে কথা হয় কেন্দ্রীয় যুবদলের দুইজন সদস্যের সঙ্গে। নাম না প্রকাশ করার শর্তে তারা বলেন, হোমিওপ্যাথিক এই কর্মসূচিতে সরকার বা আওয়ামী লীগকে চাপে রাখা যাবে না। গরম কর্মসূচি দিতে হবে সরকারকে চাপে রাখতে হলে। আমরা বলছি না হরতাল বা অবরোধের মতো কর্মসূচি দিতে। লংমার্চ, অবস্থান কর্মসূচি, জেলা সফর, মৌনমিছিল এই ধরনের কর্মসূচি দিলে নেতাকর্মীরাও মাঠে থাকবে। সরকারও চাপ অনুভব করবে। তাহলেই সরকার তাড়াতাড়ি নেত্রীকে মুক্তি দিবে।
তেজগাঁও থানার মহানগর বিএনপির এক  নেতা বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দেওয়ার পেছনে যুক্তি দিচ্ছে হামলা, মামলা, গ্রেফতারের। আমরা প্রশ্ন হচ্ছে এখনও কি মামলা ,গ্রেফতার বন্ধ আছে? সারাদেশে প্রতিদিনই নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, হামলা চলছে। তাহলে এই ধরনের ঘরে বসে থাকার গণস্বাক্ষর কর্মসূচি দিয়ে লাভ কি? এতে বরং নেতাকর্মীরা আন্দোলন করার উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে।
 
কর্মীদের এসব  বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নয়াপল্টনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি আরও তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। বিএনপি সব সময় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাসী।
 
তিনি বলেন, গণস্বাক্ষর অভিযানে দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে পেশাজীবী, খেতমজুর, কৃষক সবার মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। এতে সরকার ভীত হয়ে অনেক জায়গায় হামলাও চালাচ্ছে, নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে। খালেদা মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত এই গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চলবে।
রাজধানী ঢাকার বাইরেও প্রথম দিনের পর থেকে গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধিরা জানান, প্রথম দিন বিভিন্ন জেলায় গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চললেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন তা চোখে পড়ার মতো ছিল না।
বাংলা ট্রিবিউনের ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, প্রথমদিনের পর থেকে বিএনপির গণস্বাক্ষর কর্মসূচি দৃশমান ছিল না। আবার দলের পক্ষে থেকে বলা হচ্ছে, মঙ্গলবারের বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রস্তুতির জন্য সোমবারের গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান বন্ধ আছে। এবিষয়ে জেলা বিএনপির সিনিয়র সভাপতি অধ্যাপক একে এম শফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আগামীকালের বিক্ষোভ কর্মসূচি জন্য সোমবার গণস্বাক্ষর কর্মসূচি বন্ধ আছে। তবে আমাদের গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বাধা আসায় বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে স্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন নেতাকর্মীরা।
 
বরিশাল প্রতিনিধি জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি গণস্বাক্ষর অভিযান প্রথমদিনে উৎসাহ নিয়ে সংগ্রহ করেছে নেতাকর্মীরা।  তবে শনিবার, রবিবার সেইভাবে চোখে পড়েনি স্বাক্ষর অভিযান। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ও বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা মধ্য দিয়ে গণ-স্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি চলছে। এজন্য মহানগর এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের কার্যালয়ে নেতা-কর্মী-সমর্থকরা স্বাক্ষর দিচ্ছেন। তিনদিনের এ কর্মসূচি আরও বাড়ানো হতে পারে।
 
জেলা (দক্ষিণ) বিএনপি সভাপতি এবায়দুল হক চান বলেন, মহানগরের বাইরে উপজেলা এবং অনেক জায়গায় ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয় নেতা-কর্মীরা ছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি, পেশার লোক এতে স্বাক্ষর দিচ্ছেন। তবে অনেক জায়গায় অতি উৎসাহী  হয়ে পুলিশ সরকারি দলের কর্মীর ভূমিকা নিয়ে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় জড়িয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
 
খুলনা প্রতিনিধি জানান, তিন দিনে খুলনায় দেড় লাখ গণস্বাক্ষর সংগ্রহে কাজ চলছে বলে দাবি করছেন বিএনপি। মহানগরীর ৩১টি ওয়ার্ড থেকে ৫০ হাজার ও জেলার ৯টি উপজেলা এলাকা থেকে ১ লাখ গণস্বাক্ষর সংগ্রহের লক্ষ্যে কাজ চলছে।
 
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি জনসাধারণের দ্বার গোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে দেড় থেকে দুই হাজার গণস্বাক্ষর করিয়ে দলীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়া হবে।
 
রংপুর প্রতিনিধি জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বিএনপির যে গণস্বাক্ষর অভিযান চলছে তা রংপুরে দলটির অফিসে সংগ্রহ করতে দেখা যায়নি। শনিবার ও রবিবারও ছিল একই চিত্র। রংপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফর হোসেন বলেন, আমাদের গণস্বাক্ষর অভিযান বিকালে সংগ্রহ করেছি প্রথমদিন। হামলা-মামলার ভয়ে নেতাকর্মীরা কোনও কর্মসূচি পালন করতে পারছে না।
 
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপির শান্তিপূর্ণ চলছে, কারণ, এরপর সরকার হামলা,মামলা করছে। আগামীতেও আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। কোনও ধরণের উস্কানিতে পা দিবে না বিএনপি।
 
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই গণস্বাক্ষর অভিযান চলবে। পরে নেতারা বসে সিদ্ধান্ত  নেবেন—এ গণস্বাক্ষর কোথাও জমা দেবে কিনা। তবে এ বিষয়ে এখনও কোন পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।