Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

সমঝোতা না হলে কী হতে পারে!

Published:2018-10-02 00:30:17    
সমঝোতা না হলে কী হতে পারে!

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(): https:// wrapper is disabled in the server configuration by allow_url_fopen=0

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(https://api.facebook.com/method/fql.query?format=json&query=SELECT+url%2C+normalized_url%2C+share_count%2C+like_count%2C+comment_count%2C+total_count%2C+commentsbox_count%2C+comments_fbid%2C+click_count+FROM+link_stat+WHERE+url+%3D+%27http%3A%2F%2Fbanglasongbad24.com%2Fcontent%2Ftnews%2F555%27): failed to open stream: no suitable wrapper could be found

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Trying to get property of non-object

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 35

জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান বিষয়ে ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যে বিধান প্রবর্তন করা হয়, তাতে বলা হয়- মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভেঙে যাওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে এবং মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভেঙে যাওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ বিধান প্রবর্তন-পরবর্তী ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচন তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও এর জোটভুক্ত দলগুলো বর্জন করে। সে নির্বাচনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের জন্য উন্মুক্ত সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫৪টি আসনের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। অপরাপর আসনগুলোর ভোটারের উপস্থিতি খুবই নগণ্য ছিল। এক কথায় বলা যায়- এ নির্বাচন ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনের মতো অনিয়ম, কলুষতা ও কালিমায় পরিপূর্ণ ছিল। ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনটি তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ এবং দলটির সহাবস্থানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে থাকা জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী বর্জন করায় সেটি দশম সংসদ নির্বাচনের মতো একতরফা ছিল।

ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান-পরবর্তী জন-আকাঙ্ক্ষা এবং তৎকালীন নির্বাচন বর্জনকারী দলগুলোর আন্দোলনের মুখে সে সময়কার ক্ষমতাসীন বিএনপি দেশের স্থিতিশীলতার বিষয়টি মুখ্য বিবেচনায় রাজনৈতিক বিরোধীদের দাবি ও জন-আকাঙ্ক্ষা প্রতি সম্মান দেখিয়ে নিজ উদ্যোগে সংসদে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল উত্থাপনপূর্বক সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে মেয়াদ অবসান বা মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য যেকোনো কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভেঙে যাওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান প্রবর্তন করে। এ বিধানটি প্রবর্তন-পরবর্তী এর অধীন সপ্তম ও অষ্টম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ দু’টি নির্বাচনের প্রথমোক্তটিতে আওয়ামী লীগ ও শেষোক্তটিতে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করে।

বিএনপি কর্তৃক ষষ্ঠ সংসদে নিজ উদ্যোগে একতরফাভাবে নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধান প্রবর্তন সে সময়কার প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ও তাদের দাবি আদায়ের সহযোগী জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীর দাবির বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যেভাবেই দেখা হোক না কেন, তা স্বীকার করার ক্ষেত্রে কোনো দ্বিধা থাকার কথা নয় যে, এটি অপরের দাবির সমর্থনে রাজনৈতিক সমঝোতার বহিঃপ্রকাশ। এ রাজনৈতিক সমঝোতা দেশকে দু’টি সরকারের মেয়াদকালীন স্থিতিশীলতা দিলেও পরবর্তীকালে জনৈক বিশেষ ব্যক্তিকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার প্রয়াসে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অবসরের বয়স বৃদ্ধির ঘটনায় সংবিধানের বিধানাবলি অনুসরণে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে অন্তরায় সৃষ্টি হয়। এর ফলে অষ্টম সংসদ ভেঙে যাওয়ার অব্যবহিত পর গঠিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং তৎপরবর্তী গঠিত সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এ দু’টির কোনোটি সংবিধানের বিধানাবলির আলোকে গঠিত হয়েছে, এমন দাবিকে যৌক্তিক মর্মে আখ্যা দেয়ার ভিত্তি খুব একটা সুদৃঢ় নয়।

আমাদের দেশে বর্তমানে যে রাজনৈতিক সঙ্কট, তা হলো দেশের বড় দু’টি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একটি অপরটির প্রতি আস্থাশীল নয়। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ প্রধান বিরোধী দল বিএনপির দাবি এবং জনমতকে উপেক্ষা করে একতরফাভাবে সংসদে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিলোপ সাধন করে। বিলোপ সাধন-পরবর্তী প্রবর্তিত জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনবিষয়ক বিধান ’৭২-এর সংবিধানের অনুরূপ হলেও সপ্তম সংসদ নির্বাচন-পূর্ববর্তী প্রতিটি সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংসদ ভেঙে দিয়ে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়। আর এ কারণেই উপরিউক্ত কোনো নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের পদে বহাল থাকাবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আবশ্যকতা দেখা দেয়নি।

বিএনপি যেমন মনে করে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন থাকাবস্থায় দলটির অধীন জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না, অনুরূপ আওয়ামী লীগও মনে করে বিএনপি ক্ষমতাসীন থাকাবস্থায় দলটির অধীন জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। অতীতে এরূপ নির্বাচন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই বর্জন করেছে।

দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান-পরবর্তী ওই সংসদের প্রথম বৈঠক ২৯ জানুয়ারি ২০১৪ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর; যদিও প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই সংসদ ভেঙে দিতে পারেন। বর্তমান সংসদ মেয়াদ পূর্ণ করবে এটি ধরে নিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের হিসাব করলে দেখা যায়, ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারির পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনটির আয়োজন করতে হবে। 
বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাবস্থায় তাদের অধীন নির্বাচন অনুষ্ঠানে অনড় হলেও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও এর সহযোগী দলগুলো দশম সংসদ নির্বাচনের মতো এ নির্বাচনে যে অংশগ্রহণ করবে না, তাদের কার্যকলাপদৃষ্টে এমনটি অনুভূত হয়। আওয়ামী লীগের জায়গায় বর্তমানে যদি বিএনপির অবস্থান হতো, সে ক্ষেত্রে দলটির অবস্থান বিএনপির বর্তমান অবস্থানের অন্যথা হতো না।

বাংলাদেশে নির্বাচনকালীন সরকারবিষয়ক জটিলতা নিরসনে ইতঃপূর্বে কমনওয়েলথ ও জাতিসঙ্ঘ উদ্যোগে নিলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। অপর দিকে, নিজ দেশের সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ ও পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ফলপ্রসূ হতে দেখা গেছে। 
জাতীয় সংসদের নির্বাচন যেকোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নির্বাচনে দেশী বা বিদেশী হস্তক্ষেপ প্রত্যাশিত না হলেও যেকোনো ক্ষমতাসীন দল জনমত ও প্রধান বিরোধী দলগুলোর দাবির অবজ্ঞায় সংবিধানের দোহাই দিয়ে নিজেরা ক্ষমতাসীন থাকাবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে তাতে তাদের বিজয় যে সুনিশ্চিত হয়, তা এ দেশের জনমানুষের একাধিকবার অবলোকনের সুযোগ ঘটেছে।

আমাদের সংবিধান প্রণয়নকালীন সংবিধানে বর্তমানের মতো নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থার বিধান ছিল না। সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যে ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছিল, সেটিই ছিল নির্বাচনকালীন সরকার। এরূপ নির্বাচনকালীন সরকার যে মাত্রায় সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সফলতা দেখাতে পেরেছে যেকোনো দলীয় সরকারের ক্ষেত্রে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অতীতে কখনো সেরূপ সফলতার প্রকাশ ঘটেনি এবং ভবিষ্যতে যে এরূপ প্রকাশ ঘটবে, এ বিষয়ে এ দেশের সাধারণ মানুষ আশান্বিত নয়।

বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের অধিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এরূপ সংখ্যাগরিষ্ঠতা একটি দলকে সংবিধানে সংশোধনী আনয়নের অধিকারী করে। সংবিধান অপরাপর আইনের মতো একটি আইন। যেকোনো আইন প্রণয়নের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য দেশ ও জনমানুষের কল্যাণ ও মঙ্গল সাধন। সংবিধান ও আইনের মতো প্রতিটি রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের মধ্যে ভিন্নতা থাকলেও দেশ ও মানুষের কল্যাণ এবং মঙ্গল বিষয়ে কোনো ভিন্নতা নেই।

এ দেশের সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের সরকারের অধীন জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান দেখতে চায়- এ বিষয়ে যেকোনো পন্থায় জনমত যাচাই করা হলে তাতে সংখ্যাগরিষ্ঠের অবস্থান কোন দিকে হবে তা অনেকটাই সহজবোধ্য। সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতকে সম্মান দেখানোকেই বলা হয় গণতন্ত্র। মুখে গণতন্ত্রের বুলি আওড়ে অন্তরে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের উপেক্ষা কখনো গণতান্ত্রিক রীতিনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত উপেক্ষা অশুভ পন্থায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যা কখনো ক্ষমতাসীনদের জন্য সুখকর হয় না।

পৃথিবীর উন্নত, উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত এ তিন ধরনের রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে- সুষ্ঠু নির্বাচনে বিজয়ী দল জন-আকাক্সক্ষা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার কারণে পরবর্তী নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারে না। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্বাচনে জয়-পরাজয় সরকার পরিচালনায় দলের সফলতা ও বিফলতা এ দু’টির ওপর নির্ভর করে। সরকারের কার্যকলাপ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জনসাধারণের সমর্থন মুখ্য। জনমানুষের মধ্যে একটি প্রবণতা লক্ষ করা যায়, আর তা হলো- তাদের একটি বড় অংশ পরিবর্তনপ্রত্যাশী। তারা দীর্ঘ দিন যেকোনো বিশেষ দল বা ব্যক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না।

যেসব দল ও ব্যক্তি রাজনীতিতে সফল, সেসব দল বা ব্যক্তি সব সময় জনমানুষের আকাক্সক্ষাকে প্রাধান্য দেয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জনমানুষের আকাক্সক্ষার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে কোনো দল বা ব্যক্তি ক্ষমতায় দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি। সুতরাং যেকোনো দল বা ব্যক্তি ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার জন্য সংবিধান বা আইনের দোহাই দিয়ে যত ধরনের কূটকৌশলই অবলম্বন করুক না কেন, তা পরিণামে যে সুখকর হয় না এ উপলব্ধি থেকে রাজনীতিসংশ্লিষ্ট সব দল ও ব্যক্তি যদি ভবিষ্যতের চলার পথ নির্ধারণে প্রত্যয়ী হয়- তাতে দল বা ব্যক্তির সাময়িক পরাজয় ঘটলেও এর মধ্যে নিহিত থাকে ভবিষ্যতের সফলতার বীজ।