Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sat February 23 2019 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

ব্রিটেনের পূর্ব-যাত্রা

Published:2019-01-29 12:42:01    
ব্রিটেনের পূর্ব-যাত্রা

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(): https:// wrapper is disabled in the server configuration by allow_url_fopen=0

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: file_get_contents(https://api.facebook.com/method/fql.query?format=json&query=SELECT+url%2C+normalized_url%2C+share_count%2C+like_count%2C+comment_count%2C+total_count%2C+commentsbox_count%2C+comments_fbid%2C+click_count+FROM+link_stat+WHERE+url+%3D+%27http%3A%2F%2Fbanglasongbad24.com%2Fcontent%2Ftnews%2F559%27): failed to open stream: no suitable wrapper could be found

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 32

A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Trying to get property of non-object

Filename: singlecontent/tcontent.php

Line Number: 35

 
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্যাভিন উইলিয়ামসন গত ৩০শে ডিসেম্বর ব্রিটেনের ‘দ্যা টেলিগ্রাফ’ পত্রিকার সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে বের হবার পর ব্রিটেন আরও শক্তিশালী হবে। ব্রিটেন আবারও ‘সত্যিকার বৈশ্বিক শক্তি’ বা ‘ট্রু গ্লোবাল প্লেয়ার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ব্রিটেন দূরপ্রাচ্য এবং ক্যারিবিয়ানে দু’টা সামরিক ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনা করছে। ঠিক কোন কোন দেশে এই ঘাঁটি তৈরি করা হবে, তা উইলিয়ামসন না বললেও, ‘ইন্ডেপেন্ডেন্ট’ পত্রিকা তাদের বিশ্লেষণে বলছে যে, দূরপ্রাচ্যের সামরিক ঘাঁটিটি সম্ভবতঃ হবে সিঙ্গাপুরে; আর ক্যারিবিয়ানের ঘাঁটিটি হতে পারে মন্টসেরাত বা গায়ানাতে। ‘সিএনএন’ বলছে যে, দূরপ্রাচ্যের ঘাঁটিটি সিঙ্গাপুরে না হলে ব্রুনাই-তে হতে পারে। উইলিয়ামসনের এই বক্তব্যগুলি এমন সময়ে এলো, যখন ব্রেক্সিট নিয়ে ব্রিটেনে তোলপাড় হচ্ছে।
 
ব্রিটেনের এই সামরিক ঘাঁটি তৈরির ব্যাপারটা এই ডিসেম্বরেই প্রথম আসেনি। গত নভেম্বরে উইলিয়ামসন ওমানে সেই দেশের সামরিক বাহিনীর সাথে সাড়ে ৫ হাজার ব্রিটিশ সেনার ‘অপারেশন সাইফ সারিয়া-৩’ নামের সামরিক মহড়া চলার সময় ঘোষণা দেন যে, ২০১৯-এর মার্চ মাসে ওমানে স্থায়ী ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা পেতে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন যে, ব্রেক্সিটের সাথে সাথে ব্রিটেন দুনিয়া থেকে আলাদা তো হচ্ছেই না, বরং নিজের স্থিতাবস্থা থেকে আরও বহির্মূখী হচ্ছে। ২০১৭ সালে ব্রিটেন ওমানের দুকম বন্দর তার নৌবাহিনীর জাহাজের ব্যবহারের জন্যে ওমানের সাথে একটা চুক্তি করে। সেখানে ব্রিটিশ রয়াল নেভির নতুন ৬৫ হাজার টনের দৈত্যাকৃতির বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজগুলি ছাড়াও সাবমেরিন ড্রাইডকিং করা যাবে। এই চুক্তির ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালের পর প্রথমবারের মতো ওমানে স্থায়ী ব্রিটিশ ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা হয়েছে। ব্রিটিশ নীতি পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যায় ২০১৩ সালের এপ্রিলের ‘রয়াল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইন্সটিটিউশন’এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে; যেখানে বলা হয় যে, যখন মার্কিনীরা ‘পিভট টু এশিয়া’ নীতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে তার সামরিক শক্তি কমাতে থাকবে, তখন শূন্যস্থান পূরণে ব্রিটেন মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করবে। এর ফলে চার দশক ধরে চলা ব্রিটেনের ‘ইস্ট অব সুয়েজ’ নীতির পরিবর্তন হতে চলেছে। আফগানিস্তানের যুদ্ধে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর সাপ্লাই লাইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আল-মিনহাদ’ ঘাঁটি। আফগানিস্তানই ব্রিটেনকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি তৈরিতে প্রেরণা যুগিয়েছে।       
 
শুধু ঘাঁটি প্রতিষ্ঠাই নয়, ব্রিটিশ রয়াল নেভির জাহাজগুলি এখন নিয়মিতই পূর্ব দিকে যাচ্ছে। ১৫ই জানুয়ারী রয়াল নেভির ফ্রিগেট ‘মনট্রোজ’ ২০ বছরের মাঝে প্রথম ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ হিসেবে নিউজিল্যান্ড ভ্রমণ করে। একই জাহাজ ১৫ বছরের মাঝে প্রথম ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ হিসেবে প্রশান্ত মহাসাগরে ফরাসি উপনিবেশ তাহিতি ভ্রমণ করে। এক বছরের মাঝে এই জাহাজটা চতুর্থ জাহাজ হিসবে জাপান সফর করছে। এর আগে ফ্রিগেট ‘সাদারল্যান্ড’ ও ‘আরগিল’ এবং উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘এলবিয়ন’ দূরপ্রাচ্য ভ্রমণ করে। ফলশ্রুতিতে গত ১২ মাসের সকল সময়ে দূরপ্রাচ্যে ব্রিটেনের কমপক্ষে একটি যুদ্ধজাহাজ ছিল। যদিও এই জাহাজ পাঠাবার উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে উত্তর কোরিয়ার উপরে অর্থনৈতিক অবরোধ বাস্তবায়ন করা, তথাপি ব্রিটিনের পরিবর্তিত কৌশলগত সিদ্ধান্ত এখানে স্পষ্টই দৃশ্যমান। উত্তর কোরিয়ার মিশন শেষে এই জাহাজ মধ্যপ্রাচ্য যাবে এবং সেখানে জাহাজটা থেকে যাবে। জাহাজের ক্রুরা বিমানে চেপে ব্রিটেন ফিরে যাবে; আর তার স্থলে অন্য ক্রুরা এই জাহাজের সাথে যোগ দেবে। প্রতি ছয় মাস অন্তর অন্তর ক্রু পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্রিটেন স্থায়ীভাবে একটা যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে রেখে দেবে।   
 
‘রয়টার্স’ জানাচ্ছে যে, গত সেপ্টেম্বরে দূরপ্রাচ্যে যাওয়া রয়াল নেভির জাহাজ ‘এলবিয়ন’ দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের তৈরি করা দ্বীপ-ঘাঁটিগুলির কাছাকাছি দিয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র এতে বেশ খুশি হলেও চীন তার প্রতিপক্ষের তালিকায় এখন ব্রিটেনকে যোগ করতে বাধ্য হচ্ছে। অর্থাৎ আফগানিস্তান, উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ চীন সাগরের পরিস্থিতি ব্রিটেনকে পূর্বদিকে তার সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে সহায়তা করেছে। ওমান এবং দূরপ্রাচ্যে (সিঙ্গাপুর বা ব্রুনাই) ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনা এই সামরিক উপস্থিতির সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই মুহুর্তে সাইপ্রাস, জিব্রালটার, আটলান্টিক মহাসাগরে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ও এসেনশন আইল্যান্ড-এ এবং ভারত মহাসাগরের দ্বীপ দিয়েগো গার্সিয়াতে ব্রিটিশ ঘাঁটি রয়েছে। এছাড়াও কানাডা, ব্রুনাই এবং পূর্ব আফ্রিকার কেনিয়াতে ব্রিটিশদের প্রশিক্ষণ ঘাঁটি রয়েছে। নেপালে রয়েছে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর গুর্খা সৈন্যদের ইউনিট। সিঙ্গাপুরে এবং মধ্য আমেরিকার মন্টসেরাত, বার্মুডা ও বেলিজ-এ ব্রিটেনের কিছু সামরিক প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।
 
গ্যাভিন উইলিয়ামসন তার সাক্ষাৎকারে বলেন যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এটা ব্রিটেনের জন্যে সবচাইতে বড় সুযোগ। ব্রিটেন এখন অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সাথে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চাইছে। তিনি আরও বলেন যে, এই দেশগুলি শীঘ্রই আদর্শিক উপদেশ, সামরিক দিকনির্দেশনা এবং বৈশ্বিক নেতৃত্বের জন্যে ব্রিটেনের দিকে তাকাবে। অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যেই তার নৌবাহিনীর জন্যে ৯টা ফ্রিগেট এবং শিপইয়ার্ড তৈরির জন্যে ব্রিটিশ কোম্পানি ‘ব্রিটিশ এরোস্পেস’কে নির্বাচিত করেছে। ‘ফিনানশিয়াল টাইমস’ অস্ট্রেলিয়া-ব্রিটেনের ২৬ বিলিয়ন ডলারের এই বিরাট সামরিক চুক্তিকে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা ইন্ডাস্ট্রির জন্যে ‘অভ্যুত্থান’ বা ‘ক্যু’ বলে আখ্যা দিয়েছিল।
 
উইলিয়ামসন বলছেন যে, ব্রেক্সিট-এর ঘটনা ব্রিটেনকে তার ১৯৬০-এর দশকের ‘ইস্ট অব সুয়েজ’ নীতি থেকে সরে আসতে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। সেই নীতি অনুযায়ী ১৯৫৬ সালে ব্রিটিশ-ফরাসীদের কাছ থেকে সুয়েজ খাল মিশর সরকার নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেবার পর সিঙ্গাপুরসহ ব্রিটেন সুয়েজ খালের পূর্বের সকল সামরিক স্থাপনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। সেই সুবাদে যুক্তরাষ্ট্র পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এখন যুক্তরাষ্ট্র যখন বিভিন্ন এলাকায় তার সামরিক শক্তি কমাচ্ছে, তখন ব্রিটেন তার স্থান নিচ্ছে; অর্থাৎ চার দশক পর ঠিক উল্টোটা ঘটতে যাচ্ছে। ব্রেক্সিট সফল হোক আর না হোক, তা ব্রিটেনকে নতুন করে বিশ্বশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবার চিন্তা করতে শিখিয়েছে। এখন প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে যে, ব্রিটেনের এই আকাংক্ষা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং অনান্য আঞ্চলিক শক্তিরা কিভাবে দেখবে।        
 
লেখক: ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক