Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sat June 19 2021 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

ক্ষমতায় গিয়ে শিক্ষাঙ্গণগুলোকে অস্থির করতে চাইলে পরিণাম ভাল হবেনা

Published:2014-01-12 20:54:58    

ইসরাফিল, বাংলাসংবাদ: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলে ছাত্রশিবিরের ওপর ছাত্রলীগের হামলা ও শিবির নেতা হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন ক্ষমতায় গিয়ে শিক্ষাঙ্গগুলোকে অস্থির করতে চাইলে পরিণাম ভাল হবেনা।

এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী জেনারেল আবদুল জব্বার, চবি ছাত্রশিবির সভাপতি ইমরুল হাসান ও সেক্রেটারী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আজ দুপুর ১.৩০ টায় কোন রূপ উস্কানি ছাড়াই ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলের সাধারণ ছাত্র এবং শিবির নেতাকর্মীদের ওপর বর্বর হামলা চালায়। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ব্যাপক ভাংচুর ও মারধর করলেও প্রশাসন ছিল নির্বিকার। ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বারবার ফোন করলেও ছাত্রলীগের হামলা থেকে সাধারণ ছাত্রদের উদ্ধার করতে প্রশাসন কোন উদ্যোগ নেয়নি। পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে হল দখল করতে পুনরায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জঙ্গী স্টাইলে আক্রমণ করে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। নির্যাতিত ছাত্ররা পুলিশের কাছে করজোড়ে সহায়তা চাইলেও পুলিশ কোন ভ্রুক্ষেপ করেনি। উল্টো তল্লাশির কথা বলে সাধারণ ছাত্রদের জিম্মি করে ছাত্রলীগকে হলে প্রবেশ ও হামলা করার সুযোগ তৈরি করে দেয় পুলিশ।

এ সময় ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা উপুর্যোপুরি গুলি বর্ষণ করতে থাকে। তাদের গুলিতে নিহত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আমানত হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ও মেরিন সাইন্সের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র মামুন হোসাইন। অনেকের আহত হয়েছেন ২০ জনের অধিক ছাত্র। পুলিশ গ্রেফতার করেছে ১৭ জন ছাত্রকে। আহত ও ক্ষয়-ক্ষতির পরিসংখ্যান নিয়ে লুকোচুরি করছে প্রশাসন।

এদিকে ছাত্রদের বই-পত্র, একাডেমিক সার্টিফিকেট, কম্পিউটারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র কোন কিছুই রেহাই পায়নি সন্ত্রাসীদের হিংস্র ছোবল থেকে।  ছাত্রলীগের হামলায় যখন সাধারণ ছাত্রদের রক্ত ঝরছিল, তখনো প্রশাসন ছিল নিরব দর্শক। আর পুলিশ ও র‌্যাব সাধারণ ছাত্রদের জান-মালের নিরাপত্তার পরিবর্তে সন্ত্রাসীদের হামলা করার পরিবশে তৈরিতে ছিল ব্যস্ত। আমরা চবি প্রশাসন ও আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর এমন ভুমিকার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।  

শিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, গত পাঁচ বছরের মত এ বছরের শুরুতেই চর দখলের মত হল দখলে মেতে উঠেছে ছাত্রলীগ। তাদের নৃশংসতায় আবারো রক্তাক্ত হলো চবির সবুজ ক্যাম্পাস। ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর এ পর্যন্ত পাঁচ জন শিবির নেতাকে হত্যা করেছে তারা। তবুও তাদের রক্ত পিপাসা এতটুকু নিবারণ হয়নি। ভোটার বিহীন প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যার পর পরই  শিক্ষাঙ্গণগুলোকে অস্থির করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে তারা। আবারো হায়েনার মত মেধাবী ছাত্রদের রক্ত পান শুরু করেছে ক্ষুধার্ত রক্তপিপাসুর দল।

নেতৃবৃন্দ সরকারকে হুশিয়ার করে দিয়ে বলেন, অবৈধভবে ক্ষমতায় গিয়ে শিক্ষাঙ্গগুলোকে অস্থির করতে চাইলে পরিণাম ভাল হবেনা। অবিলম্বে ছাত্রলীগ নামক ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দানবদের নিবৃত্ত করুন। শিবির নেতা হত্যার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করে  চবিতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনুন।  

নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, সাধারণ ছাত্রদেরকে সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি রেখে আপনারা নিরবে তামাশা দেখতে পারেন না। অবিলম্বে আপনাদের সন্তানতুল্য ছাত্রদের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রক্তে রঞ্জিত ক্যাম্পাসকে রক্ষায় এগিয়ে আসুন। ঘটনার সাথে জড়িত সকল সন্ত্রাসীদের চিহিৃত করে আইনের আওতায় আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আহবান জানান শিবির নেতারা।   

ইসরাফিল 

আরও সংবাদ